সুধা বেলি
একটা খুব চেনা গলার স্বর : সুধা ফুচকা খাবি ? বাবলু কাকুকে বলে প্রচন্ড ঝাল দিয়ে মাখিয়েছি ,পাগল করা স্বাদ হয়েছে রে!
সুধা চিৎকার করে বলল : তেঁতুল জলে লেবুটা ঠিক আছে কিনা একবার দেখে নে, আমি আসছি এখনি।
চেনা গলার স্বর টা আবার বলল : শোন আমি কুল আর চালতার আচারও কিনে এনেছি বুঝলি ! ফুচকা খেয়েই ছাদে চলে যাবো ,কুলের বীচি মুখ থেকে দূরে ছুঁড়ে ফেলার কম্পিটিশনে আজকে আমি তোকে হারিয়েই ছাড়বো। আগের বার হাওয়ার পার্শিয়ালটির জন্যই তো তুই হারতে হারতেও জিতে গেলি।
সুধা হেসে বলল :সে না হয় হবে কিন্তু তুই আচার টা অরুণ কাকুর থেকে এনেছিস তো ? পাশের নতুন লোকটা কিন্তু একদম ভালো বানায় না।
চেনা গলার স্বরটা বলল : না তো কি ? ১৫ মিনিট লাইনে দাড়িয়ে থেকে "কাকু ,আমাকে এবার দাও প্লিস" বলতে বলতে গলা শুকিয়ে যাবার পরই হাতে পেয়েছি এই অমৃত ,মাছি মারা লোকের কাছ থেকে ভ্যাজাল কেনার শর্টকাট আর যেই করুক এই শর্মা মরে গেলেও করবে না।
সুধা বলল:আমার কাছেও একটা জিনিস আছে ,কালকে অফিস থেকে বাড়ি ফেরার সময় বাবা ট্রেন থেকে কিনে এনেছে :টক ঝাল মিষ্টি হজমি গুলি। একটা মুখে দিলেই সব মিসের সব গালাগালি মাথা থেকে একেবারে কর্পুরের মত উবে যাবে।
চেনা গলার স্বর টা বলল :বলছিস ! তাহলে তো আর কথাই নেই ,ওহ সুধা আরো আছে ,আজকে বিকেলে তাতাই বলছে নুন লঙ্কা দিয়ে কাঁচা পেয়ারা আর কামরাঙ্গা মাখবে ,কোনরকমে এগুলো শেষ করেই তোকে নিয়ে এক নিমেষে পৌছে যাবো আমাদের বাড়ির রান্নাঘরে।
সুধা বলল:উফ ! ভেবেই গায়ে শিহরণ দিচ্ছে এখনি ,সত্যি তাতাই এর হাতে যে কি আছে ,বাতাবি লেবুই বল, শসা কুচি ,নাহলে তোদের গাছের ডাসা পেয়ারা, কাঁচা ছোলা সব কিছুই তাতাই কাকুর হাতের জাদুতে অসম্ভব রকম লোভনীয় হয়ে ওঠে,সে লোভ এতটাই যে পরদিন সকালে ঘন্টার পর ঘন্টা বাথরুমে বসে থাকার কষ্টের স্মৃতি যতই স্পষ্ট হয়ে চোখের সামনে আসুক না কেন ,তা এক মুহুর্তের জন্যও ততই কাকুর থালা থেকে আমার হাতকে দূরে রাখতে পারে না। চেনা গলার স্বর টা: কিরে আর কতক্ষণ ? কি করছিস বল তো ? তাড়াতাড়ি আয় না সুধা , বাবলু কাকুর যে দেরী হয়ে যাচ্ছে।
সুধা চিৎকার করে বলল : যাই ! হঠাৎ, ঘড়ির এলার্মের শব্দে বিছানায় উঠে বসলো সুধা ,ঘড়িতে দেখলো ঠিক ৮ টা, আজকে অফিসে ৯.৩০ থেকে তার জরুরি মিটিং, দ্রুত স্নান সেরে তৈরী হয়ে পাউরুটিতে জেলি মাখিয়ে নিল সুধা, বাটার খুব প্রিয় কিন্তু ইদানীং কোলেস্টেরল হালকা দেখা দিচ্ছে তাই ডাঃ অর্ণব বাটার খেতে নিষেধ করেছেন।টিফিন বক্সে ভরে নিল কালকে রাতের বানানো পাস্তা। তাড়াতাড়ি গাড়ি চালিয়ে অফিস পৌছে সুধা দেখল সবে ৯:১০ বাজে,মিটিং শুরু হতে এখনো কুড়ি মিনিট বাকি। ব্যাগ টা ডেস্কে রেখে , মোবাইল ফোন টা হাতে নিয়ে একটা নম্বর ডায়াল করলো সে , খুব চেনা গলার 'হ্যালো' কথাটা ফোনের ওদিক থেকে ভেসে আসতেই সুধা বলল : এই বেলি! ওইসব সংসার টংসার ছাড় দেখিনি !একদিন না হয় নিজের ভাত ওকে নিজেকেই রাঁধতে দে ,তুই আমার সাথে চল এখনি ।
- আরিববাস সুধা! তা ম্যাডাম অনেকদিন পর মনে পড়ল বল। তুই ছাড় তো! খুব সহজে বলে দিলি নিজে আগে সংসার করো ম্যাডাম তাহলে বুঝবে কত ধানে কত চাল!
- ছাড় সব কিছু ছেড়ে একটু বাইরে বেরিয়ে আয়। বাবলু কাকু কিন্তু এখনো মোড়ের মাথায় বসে।বাবলু কাকুর যে সত্যি অনেক দেরী হয়ে যাচ্ছে।"
- আচ্ছা যাব খন। দাঁড়া ভাতের ফ্যানটা গলিয়ে তোকে ফোন করছি।
- আচ্ছা! বলে কোম্পানির এমডি সুধময়ী সান্যাল বাইরের কাঁচের শার্সি দিয়ে আকাশটাকে চেনার চেষ্টা করে। ওটা কি এখনো ততটাই নীল আছে! এদিকে সত্যিই জীবনে যেন সবকিছু কেমন দেরি হয়ে যাচ্ছে।
© দেবমাল্য দত্ত।
x
সুধা চিৎকার করে বলল : তেঁতুল জলে লেবুটা ঠিক আছে কিনা একবার দেখে নে, আমি আসছি এখনি।
চেনা গলার স্বর টা আবার বলল : শোন আমি কুল আর চালতার আচারও কিনে এনেছি বুঝলি ! ফুচকা খেয়েই ছাদে চলে যাবো ,কুলের বীচি মুখ থেকে দূরে ছুঁড়ে ফেলার কম্পিটিশনে আজকে আমি তোকে হারিয়েই ছাড়বো। আগের বার হাওয়ার পার্শিয়ালটির জন্যই তো তুই হারতে হারতেও জিতে গেলি।
সুধা হেসে বলল :সে না হয় হবে কিন্তু তুই আচার টা অরুণ কাকুর থেকে এনেছিস তো ? পাশের নতুন লোকটা কিন্তু একদম ভালো বানায় না।
চেনা গলার স্বরটা বলল : না তো কি ? ১৫ মিনিট লাইনে দাড়িয়ে থেকে "কাকু ,আমাকে এবার দাও প্লিস" বলতে বলতে গলা শুকিয়ে যাবার পরই হাতে পেয়েছি এই অমৃত ,মাছি মারা লোকের কাছ থেকে ভ্যাজাল কেনার শর্টকাট আর যেই করুক এই শর্মা মরে গেলেও করবে না।
সুধা বলল:আমার কাছেও একটা জিনিস আছে ,কালকে অফিস থেকে বাড়ি ফেরার সময় বাবা ট্রেন থেকে কিনে এনেছে :টক ঝাল মিষ্টি হজমি গুলি। একটা মুখে দিলেই সব মিসের সব গালাগালি মাথা থেকে একেবারে কর্পুরের মত উবে যাবে।
চেনা গলার স্বর টা বলল :বলছিস ! তাহলে তো আর কথাই নেই ,ওহ সুধা আরো আছে ,আজকে বিকেলে তাতাই বলছে নুন লঙ্কা দিয়ে কাঁচা পেয়ারা আর কামরাঙ্গা মাখবে ,কোনরকমে এগুলো শেষ করেই তোকে নিয়ে এক নিমেষে পৌছে যাবো আমাদের বাড়ির রান্নাঘরে।
সুধা বলল:উফ ! ভেবেই গায়ে শিহরণ দিচ্ছে এখনি ,সত্যি তাতাই এর হাতে যে কি আছে ,বাতাবি লেবুই বল, শসা কুচি ,নাহলে তোদের গাছের ডাসা পেয়ারা, কাঁচা ছোলা সব কিছুই তাতাই কাকুর হাতের জাদুতে অসম্ভব রকম লোভনীয় হয়ে ওঠে,সে লোভ এতটাই যে পরদিন সকালে ঘন্টার পর ঘন্টা বাথরুমে বসে থাকার কষ্টের স্মৃতি যতই স্পষ্ট হয়ে চোখের সামনে আসুক না কেন ,তা এক মুহুর্তের জন্যও ততই কাকুর থালা থেকে আমার হাতকে দূরে রাখতে পারে না। চেনা গলার স্বর টা: কিরে আর কতক্ষণ ? কি করছিস বল তো ? তাড়াতাড়ি আয় না সুধা , বাবলু কাকুর যে দেরী হয়ে যাচ্ছে।
সুধা চিৎকার করে বলল : যাই ! হঠাৎ, ঘড়ির এলার্মের শব্দে বিছানায় উঠে বসলো সুধা ,ঘড়িতে দেখলো ঠিক ৮ টা, আজকে অফিসে ৯.৩০ থেকে তার জরুরি মিটিং, দ্রুত স্নান সেরে তৈরী হয়ে পাউরুটিতে জেলি মাখিয়ে নিল সুধা, বাটার খুব প্রিয় কিন্তু ইদানীং কোলেস্টেরল হালকা দেখা দিচ্ছে তাই ডাঃ অর্ণব বাটার খেতে নিষেধ করেছেন।টিফিন বক্সে ভরে নিল কালকে রাতের বানানো পাস্তা। তাড়াতাড়ি গাড়ি চালিয়ে অফিস পৌছে সুধা দেখল সবে ৯:১০ বাজে,মিটিং শুরু হতে এখনো কুড়ি মিনিট বাকি। ব্যাগ টা ডেস্কে রেখে , মোবাইল ফোন টা হাতে নিয়ে একটা নম্বর ডায়াল করলো সে , খুব চেনা গলার 'হ্যালো' কথাটা ফোনের ওদিক থেকে ভেসে আসতেই সুধা বলল : এই বেলি! ওইসব সংসার টংসার ছাড় দেখিনি !একদিন না হয় নিজের ভাত ওকে নিজেকেই রাঁধতে দে ,তুই আমার সাথে চল এখনি ।
- আরিববাস সুধা! তা ম্যাডাম অনেকদিন পর মনে পড়ল বল। তুই ছাড় তো! খুব সহজে বলে দিলি নিজে আগে সংসার করো ম্যাডাম তাহলে বুঝবে কত ধানে কত চাল!
- ছাড় সব কিছু ছেড়ে একটু বাইরে বেরিয়ে আয়। বাবলু কাকু কিন্তু এখনো মোড়ের মাথায় বসে।বাবলু কাকুর যে সত্যি অনেক দেরী হয়ে যাচ্ছে।"
- আচ্ছা যাব খন। দাঁড়া ভাতের ফ্যানটা গলিয়ে তোকে ফোন করছি।
- আচ্ছা! বলে কোম্পানির এমডি সুধময়ী সান্যাল বাইরের কাঁচের শার্সি দিয়ে আকাশটাকে চেনার চেষ্টা করে। ওটা কি এখনো ততটাই নীল আছে! এদিকে সত্যিই জীবনে যেন সবকিছু কেমন দেরি হয়ে যাচ্ছে।
© দেবমাল্য দত্ত।
x
Comments
Post a Comment